Friday, August 20, 2010

Islamic Story and History

হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রাঃ) এর ঘটনা

হজরত সিদ্দিকে আবু বকর (রাঃ) এর দানের ঘটনাবলী একত্র করা দুঃসাধ্য ব্যাপার। তাবুকের যুদ্ধে হুজুরে পাক (সাঃ) যখন চাদার জন্য উতসাহ দিলেন তখন হযরত সিদ্দিক (রাঃ) ঘরের যাবতীয় আসবাব আনিয়া প্রিয় মাহবুবের খেদমতে হাজির করিলেন। হুজুর (সাঃ) তাহাকে  জ়িজ্ঞাসা করিলেন যে আপনি ঘরে কি রাখিয়া আসিয়াছেন।তিনি উত্তর দিলেন আল্লাহ ও তার রাসুলকে রাখিয়া আসিয়াছি। কুরআন মজীদে সয়ং আল্লাহ পাক হজরত আবু বকর সিদ্দিকের প্রশংসা এ ভাবে করিয়াছেন-সেই আগুন হইতে  ঐ  ব্যক্তিকে দূরে রাখা হইবে যিনি পবিত্র হইবার মানসে মালকে আল্লাহর রাস্তাএ খরচ করে ও আল্লাহর রেজামন্দি ব্যতীত তাহার অন্য কোন উদ্দেশ্য নাই।'' আল্লামা এবনে জওজ়ী (রহঃ)বলেন,এই আয়াত হজরত আবু বকর সিদ্দীকের শানে অবতীর্ন হইয়াছে। হুজুরে পাক (সাঃ) এরশাদ করেন, আবু বকর সিদ্দীকের মালের দ্বারা আমার এত উপকার হইয়াছে যে, অন্য কাহারও মালে তত উপকার হয় নাই।এই কথা শুনিয়া প্রেমিক আবু (রাঃ) কাদিতে লাগিলেন ও বলিলেন ইয়া রাসুলাল্লাহ!আমি এবং আমার মাল সব কিছুইতো আপনার। বর্ণিত আছে আবু বকর (রাঃ) এর মাল হুজুর (সাঃ) নিজের মালের মতই খরচ করিতেন। হজরত রওয়া (রাঃ) বলেন হজরত আবু বকর সিদ্দীক যখন ইসলাম গ্রহণ করলেন তখন তাহার নিকট চল্লিশ হাজার দেরহাম ছিল। তিনি উহার সবগুলি প্রিয় হাবীবের সন্তুষ্টির জন্য খরচ করিয়া দেন।অন্য হাদিছে আছে ইসলাম গ্রহণের সময় ৪০ হাজার আর হিজরতের সময় ৫ হাজার দেরহাম ছিল। এই সব গোলাম আজাদ ও ইসলামের অন্যান্য কাজে ব্যয় করিয়া দেন।



তিন বন্ধুর কেচ্ছা
ওয়াফেদী (রহঃ) বলেন আমার দুই বন্ধু ছিল। একজন ছিল হাশেমী ও অপরজন গায়ের হাশিমী। আমাদের মধ্যে সম্পর্ক এতই গভীর ছিল যে যেমন এক প্রাণ তিন শরীর। আমি ভীষন অভাবগ্রস্ত ছিলাম। ঈদের দিন আগত প্রায়। বিবি বলিল আমরা তো যে কোন ছুরতে ছবর করিয়া থাকিব কিন্তু ছেলেমেয়েদের কান্নাকাটি ও হটকারিতা আমার অন্তরকে টুকরা টুকরা করিয়া দিয়াছে। ইহারা মহল্লার অন্যান্য ছেলেমেয়েদিগকে দেখিতেছে তাধারা ঈদের জন্য ভাল পষাক ও সাজসরঞ্জাম খরিদ করিতেছে। আর ইহারা পুরনো ছেড়া কাপড় পরিয়া আছে। যদি সম্ভব হয় কোথাও হইতে কিছু আনিয়া ছিলেমেয়েদেরকে সান্তনা দাও। বিবির কথা শুনিয়া আমার মনেও বড় ব্যথা হইল। তাই আমি হাশেমী বন্ধুর নিকট একটি চিঠি লিখিলাম। তাহার উত্তরে তিনি মোহরকৃত একটি থলিয়া আমার জন্য পাঠাইয়া দিলেন ও বলিলেন, ইহাতে এক হাজার দিরহাম রহিয়াছে। টাকা গুলি দিয়া আমার মনকে ঠান্ডা করার পুর্বেই অপর বন্ধু আমার নিকট সেইরুপ অভাবের কথা লিখিয়া পত্র লিখিল। আমি ততক্ষনাত সেই থলিটা না খুলিয়াই তৃতীয় সেই বন্ধু জন্য পাঠাইয়া দিলাম ও নিজে লজ্জায় বিবির নিকট মুখ দেখাইতে না পারিয়া দুই দিন যাবত মাসজিদে পরিয়া রহিলাম। তৃতীয় দিন ঘরে গিয়া আমি বিবিকে সমস্ত ঘটনা শুনাইলাম। বিবি বিন্দু মাত্রও নারাজ না হইয়া আমার কাজকে খুব পছন্দ করিলেন। আমি বিবির সহিত কথা বলিতেছিলাম ইত্যবসরে আমার হাশেমী বন্ধু সেই থলিটা নিয়া হাজির হইলেন ও বলিলেন, সত্য সত্য বল, ব্যপার কি? আমি তাহাকে কেচ্ছা শুনাইলাম। তারপর হাশেমী ভাই বলিল, যখন তোমার চিঠি আমার নিকট পৌছিয়াছিল তখন আমার নিকট ইহা ছাড়া আর কিছুই ছিলনা, তোমার নিকট আমি ইহা পাঠাইলাম ও তৃতীয় বন্ধুকে অবস্থা জানাইয়া পত্র লিখিলাম। তিনি উত্তরে উক্ত থলিয়া আমার নিকট পাঠাইয়া দিলেন, উহাতে আমি হতবাক হইয়া গেলাম যে ইহা তো আমি তোমার নিকট পাঠাইয়াছিলাম ইহা ঐ তৃতীয় বন্ধুর নিকট কি করিয়া গেল? এই জন্য আমি উহার ভেদ জানিতে আসিয়াছি। আমি তোমার নিকট উহার রহস্য শুনিবার জন্য আসিয়াছি। ওয়াফেদী (রহঃ) বলেন, অতঃপর সেখান হইতে একশত দেরহাম আমার স্ত্রীকে দিলাম আর তিনশত করিয়া বাকীগুলি আমরা বন্টন করিয়া নিলাম।
ঘটনাক্রমে এই খবর খলিফা মামুনুর রশীদের কানে পৌছিল। তিনি আমাকে ডাকিয়া পাঠাইলেন এবং আমার নিকট পুরা ঘটনা শুনিলেন ও আমাদিগকে সাত হাজার দিরহাম দান করিলেন। আমাদের তিন বন্ধুকে দুই দুই হাজার করিয়া ও এক হাজার দিরহাম আমার স্ত্রীকে দিলেন।


 সুত্রঃ ফাজায়েলে সাদাকাত, ২য় খন্ড

 

1 comment:

  1. this is a site for all. You can log in here to know about Jesus Potter Harry Christ.
    Jesus Potter Harry Christ

    ReplyDelete